ডিজিটাল মার্কেটিং — ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ক্যারিয়ার

ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ক্যারিয়ার
ডিজিটাল মার্কেটিং ফর ক্যারিয়ার

আজকে আমরা দেখবো How to learn seo easily in bangla?

How to learn seo easily in bangla

এসইও মানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন। অনেকেই এসই্ও শিখতে চান। এখন অনলাইনে যা করতে যান না কেন এসইও জানা লাগবেই। এসইও খুব সহজ আবার খুব কঠিন। আপনি চাইলে এসইও শিখতে পারেন খুব সহজেই।

আচ্ছা চলুন গল্পে গল্পে এসইও শিখি…………

আজকে সকালে একজন হঠাৎ একটি ম্যাসেজ করল আমার ইনবক্সে। প্রশ্ন, “ভাই, গুগলের অ্যালগরিদম আপডেটের পর আপনার ওয়েবসাইটের কি খবর?” রিপ্লাই করলাম, “তেমন কিছু নয়। আগের মতোই যা আছে তা।’ তিনি রিপ্লাই করলেন, “ভাই, সবাই তো কান্নাকাটি করছে আপনার আসল রহস্য কি, আমাদের সাথে প্রকাশ করেন।” আমি রিপ্লাই করলাম, “কেনো রহস্য নাই ভাই। আমি খুবই সাধারনত একজন ভদ্র শ্রেণীর নিরীহ মানুষ।” 😁😁😁

আসলেও ভাই, আমার কোনো রহস্য নাই। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি আমার ইউজার/ভিজিটরের জন্য সবচেয়ে বেস্ট জিনিসটা দেওয়ার। আমার ওয়েবসাইটে এসে তারা যাতে কোনোভাবেই বিরক্ত বোধ না করে।

একটা জিনিস কি জানেন? আমরা মূলত সব সময় চিন্তা করি যে কোনো একটি কনটেন্ট এর টাইটেলে, ১ম প্যারাগ্রাফে, URL — এ কীওর্য়াডটি বসাবো। কিছু ব্যাকলিংক করবো গুগল আমাকে র‌্যাংক দিয়ে দিবে।

এই জিনিসটি আমিও চিন্তা করতাম। কিন্তু আমার এই ধারনাটি কখন থেকে ভাঙে জানেন? যখন একবার এক এসইও এর সেমিনারে বাংলাদেশের একজন টপ লেভেলের এসইও এক্সপার্ট বলেছিলেন যে তিনি যদি একদিনের জন্যেও কোনো ওয়েবসাইটের জন্য এসইও এর কাজ করেন, তবুও তিনি কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা তার সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকেন।

কেউ আবার কমেন্টে গিয়ে বলিয়েন না যে উনি বাংলাদেশের যেহেতু একজন টপ লেভেলের এক্সর্পাট সেহেতু উনার অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার একটা দাম তো নিশ্চয়ই আছে।

তবে কম্পিউটার ভিত্তিকে যেকোনো স্কিলের একটা প্রধান সমস্যা কি জানেন? আপনার ১০ বছরের অভিজ্ঞতা নাকি ১ বছরের অভিজ্ঞতা সেটা দেখে সাধারনত আপনি কাজ করতে পারবেন না। আপনি কাজ করতে পারেন কি না সেটা সেখানে নির্ভর করবে।

আপনি ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ১০ বছর অফিস করে যদি মনে করেন আপনি এই সেক্টরগুলোতে অভিজ্ঞ হয়ে গিয়েছেন, আপনার অনেক দক্ষতা চলে এসেছে তাহলে ভুল করছেন।

আপনি কে? কি করছেন? কোথায় থাকেন? কত দিন ধরে কাজ করছেন? এগুলি কিচ্ছু যায় আসে না এখানে। আপনি কাজ করতে পারেন কি না — সেটার উপর নির্ভর করবে সব কিছু। সহজ কথায় আপনার স্কিলের উপর এখানে সব নির্ভর করবে।

তো সেই থেকে আমি চিন্তা করতে থাকলাম এমন কি আছে যেটা উনি জানে কিন্তু আমি জানি না। যার জন্য উনি ক্লায়েন্ট কার কাছ থেকে ১ দিনের জন্যে ১ লাখ টাকা চার্জ করতে পারে কিন্তু আমি পারি না!!!

ঘাটাঁঘাটি করতে করতে কিছু বিষয় পেলাম যেগুলোর দিকে আসলে আগে কখনও আমি খুব একটা মাথা ঘামাতাম না। দেখুন গুগলের কাছে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট আছে তার ১ম পেজে র‌্যাংক করানোর জন্য।

কিন্তু গুগল সেখান থেকে মাত্র ১০টি ওয়েবসাইটকে ধরে নিয়ে আসে তার ১ম পেজে। আচ্ছা বলুন, “how to learn seo” — এই কীওর্য়াডটি লিখে আপনি যদি গুগলে সার্চ করেন তাহলে দেখবেন সেখানে ১ম পেজে Mangotools, Moz, Ahrefs, Backlinko — এরা র‌্যাংক করে আছে।

২য় পেজে গেলে দেখবেন সেখানে Neilpatel, Quicksprout (Neil Patel এর আরেক জায়ান্ট ওয়েবসাইট), Seopressor র‌্যাংক করে আছে। এরা কি আপনার মতে এসইও কম পারে?

৩য় পেজে গেলে দেখবেন সেখানে ‍Seobook, Serpstat, Medium — এর মতো ওয়েবসাইটগুলি র‌্যাংক করে আছে। এরা তো এসইও এর উপর বেশ ভালো জ্ঞান বিতরন করে (আমি তাদের ছোট করছি না। তারা আসলেই খুব খুব ভালো মানের কনটেন্ট দিয়ে থাকে এসইও এর উপর এবং আমরা যদি সেগুলি নিয়মিত পড়ি, তাহলে এসইও এর অনেক অনেক বিষয় আমরা জানতে পারব; যেটা হয়ত আগে মাথায়ও আসে নি। অন্তত আমার সেরকমটাই হয়ে থাকে) তাহলে তারা কেন এই কীওর্য়াডগুলিতে র‌্যাংক করে নি?

সবচেয়ে মজার ব্যাপার কি না জানেন? গুগল এমন একটা পেজকে এখানে র‌্যাংক দিয়েছে যেটা আসলে আমাদের হিসেবে এখানে ফির্চাড
স্নিপেটে দিয়েছে যার আসলে থাকার কথা নয়।

dynomapper.com — এই ভদ্রলোক গুগলের ১ নাম্বার (ফির্চাড স্নিপেট) পজিশনে জায়গা করে নিয়েছে। যার ডোমেইন অথোরিটি আর পেজ অথোরিটি মজ এক্সটেনশন এর হিসাব অনুযায়ী ৪৪ এবং ৩৬ এবং ব্যাকলিংক রয়েছে ৩৭টি (আমি মজের ফ্রি ভার্শন দিযে এগুলি চেক করছি)।

কিন্তু সেই মজের ওয়েবসাইটকে গুগল এই কীওর্য়াডে ৩ নাম্বারে র‌্যাংক দিয়ে রেখেছে যার ডোমেইন অথোরিটি ৮৯, পেজ অথোরিটি ৬৩ আর ব্যাকলিংক রয়েছে ৫,৮৪৮টি।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার কি জানেন? Moz এবং Dynomapper — এই দুইটা সাইটের একটাও “how to learn seo” — এই কীওর্য়াডটা একটাবারও তাদের সাইটের কোথাও একবারও ব্যবহার করে নি। 😂😂😂

কি অবাক হচ্ছেন?

আমার কথঅ বিশ্বাস করার দরকার নেই। নিজে গিয়ে সার্চ করে দেখে আসুন। তাহলে এবার আমাকে উত্তর দিন কেন গুগল তাদেরকে এই রকম একটা সুপার হাই কম্পিটিটিভ কীওর্য়াডে ১ম পেজে রেখেছে যেখানে তারা এই কীওর্য়াডই ব্যবহার করে নি তাদের পেজে?

উত্তর পেলেন?

এটাই হচ্ছে গুগলের মজা। আর এখানেই ওই ভদ্রলোক আর আমার মাঝে পার্থক্য?

দেখুন এসইও যদি সত্যিই এরকম কোনো বিষয় হতো যে আমি আপনাকে ৬৮ টি টিপস দিয়ে দিতাম আর আপনি একটার পর একটা কাজ করে যেতেন এবং গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করে যেতেন তাহলে এই কাজটা আপনার থেকে একটা রোবট (কম্পিউটার প্রোগ্রাম) আরো ভালো ভাবে করতে পারত।

কিন্তু যেহেতু সেরকমটা হয় না তারমানে এসইওতে এরকম কোনো স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন নেই। আপনাকে বুঝে শুনে কাজ করতে হবে।

আমি এখন গুগল অ্যালগুরিদমকে খুব একটা ভয় পাই না কেন জানেন? দিন শেষে গুগল আর আমি একই পথের যাত্রী। 😁😁😁😁😁😁

কিভাবে সেটা বলি। দেখুন গুগল এই ধরনের আপডেট কেন আনে? যাতে সে তার ইউজারকে বেস্ট রেজাল্টটি শো করতে পারে।

২০১০ এর দিকের সময়ের মতো এখনও যদি গুগল সেই “যার যত বেশি ব্যাকলিংক, সে তত ভালো র‌্যাংক পাবে” — এই নীতিতে গুগল যদি তাদের ১ম পেজে ওয়েবসাইট র‌্যাংক দিত তাহলে আপনার কি মনে হয় যে তখন গুগলের ইউজার যত ছিল, এখনও তত থাকত?

এরকম অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাসী হলে এক সময়কার মোবাইল ফোন কোম্পানীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় টেক জায়ান্ট নোকিয়া আজও মার্কেটের ৯০ ভাগ দখল করে বসে থাকত।

গুগলের ইউজার সেক্ষেত্রে দিনকে দিন কমত এবং মানুষ হয়ত অন্য কোনো ভালো সার্চ ইঞ্জিন খুজেঁ নিত এতোদিনে।

তো যেহেতু গুগল চাচ্ছে তার ইউজারকে খুশি করতে, তো আমিও যদি গুগলকে খুশি করা বাদ দিয়ে গুগলের ইউজারদের খুশি করার জন্য কাজ করে যাই তাহলেই তো ঝামেলায় শেষ!

আচ্ছা আরেকটু সহজ করে বলছি, ধরুন আপনাকে কোনো এক কোম্পানীতে মার্কেটিং এর চাকরি দেওয়া হলো। আপনি সেই অফিসের বসকে খুশি করার জন্য প্রতিদিন তার জন্য নিজের হাতে মোয়া, হালুয়া, পিঠাপুলি বানিয়ে নিয়ে যান। এতে কি আপনার বস বেশি খুশি হবে নাকি যদি আপনি আপনার মার্কেটিং এর কাজটি ঠিকভাবে করে কোম্পানীর সেল দিনকে দিন বৃদ্ধি করার জন্য কোনো ইনোভেটিভ কিছু করতেন তাহলে আপনার বস বেশি খুশি হতেন?

গুগলও ঠিক সেটিই চায়। আমরা সব সময় গুগলকে খুশি করার জন্য কাজ করি, গুগলের ইউজারকে নয়। কিন্তু গুগল আসলে চায় তারা ইউজার খুশি থাকুক। সে খুশি না থাকলেও চলবে।

আর ঠিক এই কাজটিই করার চেষ্টা করি আমি। কিন্তু কিভাবে? তেমন কিছু না। জাস্ট আমার নিশের ইউজাররা আসলে কি ধরনের বিষয় সর্ম্পকে বেশি ইন্টারেস্টেড, কি ধরনের সমস্যায় তারা সবচেয়ে বেশি পড়েন, কি কি বিষয় নিয়ে তারা বেশি ঘাটাঁঘাটিঁ করে — আমি সেই বিষয়গুলি নিয়ে বেশি কাজ করি।

আমি সেই সেই টপিকে কনটেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি জানি, আমি কনটেন্ট দিলে গুগল আমার সেই কনটেন্ট থেকে কয়েক’শ কীওর্য়াড এমনিতেও নিবে আমি না চাইলেও।

তারপর সেই সব কীওর্য়াডের মধ্যে কোন কোন কীওর্য়াডের বিষয়ে আমি কোনো কথাই বলি নি আমার কনটেন্টে, সেগুলোকে নিয়ে কয়েক লাইন লেখার চেষ্টা করি। এতে আমার কনটেন্টটি আরো আপডেটেড এবং লং হয়।

সাইটের কিছু ব্যাসিক ব্যাকলিংক করা থাকলে তখন বেশ কিছু কীওর্য়াডে আমার সেই পোস্টটি তখন গুগলের ২/৩ নাম্বার পেজে ঘুরাঘুরি করা শুরু করে।

আমি কিন্তু তখনই গেস্ট পোস্টিং বা এ ধরনের ব্যাকলিংক করা শুরু করি না। কয়েক সপ্তাহ ওভাবেই সেটি থাকে। আমি আবার অন্য কোনো পোস্ট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

কয়েক সপ্তাহ পড়ে হয়ত কোনো এক সন্ধ্যায় চেক দিই কোন পোস্টের কি খবর? দেখা যায় সেখান থেকে কয়েকটা অলরেডি গুগলের ১ম পেজে র‌্যাংক করে গিয়েছে। কোনো কোনোটা আবার হয় নি।

তখন দেখা যায় কিছু গেস্ট পোস্ট বা এ ধরনের কিছু ব্যাকলিংক করলে সেগুলিও র‌্যাংক করে যায় ইনশাল্লাহ্ (ব্যাকলিংক করার পরের দিনই র‌্যাংক করে না। কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও সময় লাগতে পরে ক্ষেত্রবিশেষে)।

প্রশ্ন: কিন্তু এতে তো আমি আমার কাঙ্খিত কীওর্য়াডে র‌্যাংক নাও করতে পারি?
উত্তর: জি, করতে পারেন। হয়ত গুগল আপনাকে ১০০ টা ভিন্ন ভিন্ন কীওর্য়াডে র‌্যাংক দিয়েছে কিন্তু আপনি আসলে যেটাতে র‌্যাংক করতে চেয়েছিলেন সেটাতেই সে আপনাকে র‌্যাংক দেয় নি।

তবে এখানে আমার আরেকটি প্রশ্ন আছে আপনার কাছে। আপনি কি এসই করেন কীওর্য়াডে র‌্যাংক করানোর জন্য নাকি আপনার সাইটের অর্গানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি করার জন্য?

যদি ১মটি তাহলে আমার কিছু বলার নেই। আর যদি ২য়টি হয় তাহলে গুগল যে আপনাকে ১০০টি কীওর্য়াডে র‌্যাংক দিল সেখান থেকে কি কোনো ট্রাফিকই আপনি পাচ্ছেন না?

তবে আমার জানামতে গুগল সার্চ কনসোলে আপনাকে এমন কোনো কীওর্য়াড দেখানোর কথা নয় যেখানে একটা ইম্প্রেশনও নেই। যেহেতু অন্তত ১ জন মানুষও সেই কীওর্য়াডটি লিখে গুগলে সার্চ করেছে, সুতরাং আরো মানুষ গুগলে সার্চ করতে পারে।

অতএব, আমার মতে ওই ১০০টি কীওর্য়াড থেকে আপনার কমপক্ষে ৫০ জন হলেও ট্রাফিক পাওয়ার কথা।

প্রশ্ন: তাহলে সেক্ষেত্রে আমি বায়িং কীওর্য়াড, ইনফো কীওর্য়াড এগুলি বাছাই করব কিভাবে?
উত্তর: বাংলাদেশের মানুসকে যদি আপনি টুইটারে মার্কেটিং করানোর জন্য আপনার সাথে যোগযোগ করতে বলেন তাহলে তারা জীবনেও করবে না।

কিন্তু ফেসবুকে মার্কেটিং এর ব্যাপারে একবার কথা বলে দেখুন। আপনার কাছ থেকে সার্ভিস না নিলেও আপনার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইবে।

একই রকম ভাবে আপনার ইউজার কখন প্রোডাক্ট কিনবে আর কখন কিনবে না সেটা আপনার ইউজারের উপরই ছেড়ে দিন। আর তাছাড়া, সব ট্রাফিককি আপনি গুগল থেকেই নিবেন?

নিজের সাইটের ট্রাফিকদেরকে যদি আপনার সাইটের অন্য কোনো মানি কনটেন্ট থেকে প্রোডাক্ট কেনাতে না পারেন তাহলে তো ভাই হবে না। সব সময়ই গুগলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।

আর তাছাড়া গুগল কি আপনার কনটেন্ট থেকে একটিও বায়িং কীওর্য়াড নিবে না? নিশ্চয়ই নিবে।

তখন সেগুলিকে অপ্টিমাইজ করলেও আমার মনে হয় খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এ বার আপনি যদি গুগলে গিয়ে How to learn seo easily in bangla লিখে সার্চ দেন তাহলে এটি পেয়ে যাবেন আর এটিয়েই মূলত এস ই ও এর কাজ।

এবার আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন। বলুনতো এই কনটেন্টটি কি ইউজার ফ্রেন্ডলী নাকি গুগল ফ্রেন্ডলী? উত্তরটি জানাবেন কিন্তু। কেউ আবার ভাববেন না যে আমি এখানেও মার্কেটিং করছি। আমি তো আগেই বলেছি, আমি খুবই সাধারনত একজন ভদ্র শ্রেণীর নিরীহ মানুষ। 😁😁😁😁😁😁

আরো ভালো ভাবে জানতে ভিডিও দেখতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেলে

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM)

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং বা SEM এটি ব্যাপক মার্কেটিং কৌশল যা প্রাথমিকভাবে দেওয়া প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপনার ব্যবসা ট্রাফিক ড্রাইভ হয়। তাকে আমরা Paid সার্চ মার্কেটিং বলে থাকি। আপনার ব্যবসার গঠনশৈলীর উপর ভিত্তি করে সাধারনত এ ধরনের মার্কেটিং করা হয়। এক্ষেত্রে কোন PPC (পে-পার-ক্লিক করুন) অথবা সিপিসি (খরচ প্রতি ক্লিকে) মডেল বা সিপিএম (খরচ প্রতি হাজার ইমপ্রেশন) মডেল নির্বাচন করতে পারবেন। এসইএম সাধারনত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের হয়ে থাকে। যেমন-গুগুলের AdWords এবং বিং বিজ্ঞপ্তি (গুগল নেটওয়ার্কে), ইয়াহু বিং নেটওয়ার্ক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এছাড়াও এসইএম বিজ্ঞাপন অনুসন্ধান, মোবাইল মার্কেটিং, পুনঃবাজারজাতকরণের এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। SEM বর্তমান অনলাইন মার্কেটিং এর সব চেয়ে সাশ্রয়ী অনলাইন মার্কেটিং যা কিনা আপনার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বাড়াতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং

আপনার ব্যবসায়িক পণ্যের প্রচারের জন্য এর চাইতে ভাল জায়গা, এখনও নাই। একটি এ্যাক্টিভ কমিউনিটি তৈরি করুন। এমনভাবে একটি কমিউনটি তৈরি করুন যেখানে সকল মেম্বার এ্যাক্টিভ থাকবে। ফেসবুকে কমিউনিটি তৈরি করার জন্য গ্রুপ কিংবা পেজ তৈরি করুন। এমনি করে টুইটার, গুগল প্লাস কিংবা লিংকেডিনে কমিউনিটি তৈরি করুন। আপনার টার্গেটকৃত ক্রেতাদের সাথে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে বিভিন্ন আলোচনাতে অংশগ্রহন করতে পারেন। কাউকে ইমেইল পাঠানোর ক্ষেত্রে আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ কিংবা গ্রুপের লিংকগুলো সিগনেচার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আপনার নিজের ওয়েবসাইটে কিংবা কোন ব্লগে পোস্ট দেয়ার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক বাটন যুক্ত করুন। সকল সোশ্যাল মিডিয়াতে সক্রিয়ভাবে নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য ম্যানেজমেন্টটুলস (HootSuite, TweetDeck) ব্যবহার করুন যা আপনার সময়কে সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাল ফলাফল বের করতে সাহায্য করবে। নিয়মিত পোস্ট দিতে হবে। সেটা একটা রুটিন অনুযায়ী করলে ভাল হয়ে। যেমন, ৩ দিন পর, ১ সপ্তাহ পর। তাহলে নিয়মিত ভিজিটর আসবে নতুন কিছু পাবার আশায়।

ডিজিটাল ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন

এটি অনেকটা আবার আপনার SEM ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি উপসেট মার্কেটিং ব্যবস্থা। সম্ভাব্য শ্রোতাদের লক্ষ্য করে ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন ফরম্যাটের বিভিন্ন টুল ব্যবহার করতে পারেন- এটি টেক্সট, ইমেজ, ব্যানার, সমৃদ্ধ মিডিয়া, ইন্টারেক্টিভ বা ভিডিও বিজ্ঞাপন হতে পারে। আপনার আগ্রহ, বিষয়বস্তু বিষয় বা ক্রয় চক্রের গ্রাহকের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে আপনার বার্তা কাস্টমাইজ করতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, ডিজিটাল ডিসপ্লে বিজ্ঞাপন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। আপনি আপনার ব্যবসার জন্য ভাল ROI চালনা করলে বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রয়োজন হতে পারে।

যখন আমি আমার বার্তা গ্রাহকদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পোঁছাবো তখন তাকে আমরা ইমেইল মার্কেটিং বলব। একটি কার্যকর ইমেইল মার্কেটিং সফটওয়্যার দিয়ে আপনার ই-মেইল লিস্ট গ্রাহকদের পছন্দ এবং অপছন্দ এবং খরচ অভ্যাস সহ বিভিন্ন কারণের উপর ভিত্তি করে আলাদা করে বজায় রাখতে পারেন। ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে একটি অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার পন্যের এবং সেবার প্রচার করতে করতে পারবেন এবং আপনার সাইটের প্রচার করতে পারবেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছোট বড় অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধি করছে। ইমেইল মার্কেটিং হল আপনার ক্রেতাদের কাছে আপনার পণ্যের তথ্য পৌছানোর সবচাইতে কাযকরী পদ্ধতি। ইমেইল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনার যা ভাবতে হবে- বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বয়সের কিংবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির মানুষের মেইল এড্রেস জোগাড় করুন, যে পণ্যের মার্কেটিং করতে চান, সেটি নিয়ে ভালভাবে গবেষণা করুন, অন্য কোম্পানীর একই পণ্যকে নিয়ে ও তাদের মার্কেটিং কৌশল নিয়ে গবেষণা করুন, সবচাইতে সহজভাবে আপনার পণ্যের গুণ বর্ণনা করুন আপনার মেইলে। ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য প্রয়োজন একটি ওয়েবসাইট, মার্কেটিং টুলস এবং পন্য বা সেবা। ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনি আপনার পণ্য এবং সেবা কে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছে তুলে ধরতে পরবেন এবং এতে করে আপনার পন্যটি জনপ্রিয় হতে থাকবে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার পণ্য অধিক পরিমানে বিক্রি হতে থাকবে ।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনি যখন আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং স্কিল টা ব্যাবহার করে অন্য কারও প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস কমিশন ভিত্তিক প্রমোশন করবেন সেটা হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমন কোন বিষয় নয় যেখানে আপনি রাতারাতি খুব বেশি কিছু করে ফেলতে পারবেন। এখানে তারাই সফল হবে যারা ধৈর্য সহকারে কাজ করে যেতে পারবে।

ডিজিটাল মিডিয়া পরিকল্পনা ও বায়িং

যখন মিডিয়া এজেন্সি গবেষণা এবং একটি সমন্বিত কৌশল ফ্রেমওয়ার্ক এর সমন্বয়ে মার্কেটিং হয় তখন আমরা এটাকে ডিজিটাল মিডিয়া পরিকল্পনা বলে থাকি। স্মার্ট ডিভাইস ও ইন্টারনেটের প্রসারে দিনকে দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন মিডিয়াগুলো। ফলে বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ড ও কোম্পানি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে প্রচার প্রচারণার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনলাইন মার্কেটিং। ফলে অনলাইন মিডিয়ার প্রসারে ছাপা পত্রিকা, গতানুগতিক বিলবোর্ডসহ পুরাতন সব প্রচার মাধ্যমকে পেছনে ফেলার পথে এই নব্য মিডিয়া।

ওয়েব এনালিটিক্স

আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ওয়েব Analytics। মূলত, ওয়েব এনালিটিক্স সংগ্রহ করা, পরিমাপ, বুঝতে, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা, রিপোর্ট করা এবং আপনার ব্যবসার জন্য ওয়েব কার্যক্রম ভবিষ্যদ্বাণী করতে আপনাকে সাহায্য করবে। ওয়েব এনালিটিক্স ওয়েব পরিসংখ্যান সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব এনালিটিক্স হচ্ছে গুগল এনালিটিক্স, স্প্রিং মেট্রিক্স, অপেরা, প্রিন্ট। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রত্যেক বিজ্ঞাপনদাতা তার ব্যবসা বুঝতে ওয়েব এনালিটিক্স ব্যবহার করা হয়।

এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আপনার ব্যবসার জন্য বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করতে পারেন এবং এর মধ্যে থেকে আপনাকে বেছে নিতে হবে কোন কৌশলটি ব্যবহার করলে বেশি লাভবান হবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং একটি গতিশীল মাধ্যম এবং আপনি সবসময় আপানার কাজের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি আপনার গ্রাহকদের চেনেন এটাই যথেষ্ট নয়। কোম্পানীর পণ্যের প্রসারের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে মার্কেটিং করি যেমনঃ লিফলেট, পোস্টার ইত্যাদি। বর্তমানে ডিজিটাল যুগ। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সবচাইতে বেশি মানুষের কাছে পণ্যের প্রচার করা যায়, এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়েই সবচাইতে বেশি ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়া যায়। অনেক ধরণের ব্যবসা আছে যে গুলো গড়েই উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে।খুব সহজে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যায় বলে, অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য তো অবশ্যই।

Some content collected from careersourcebd.com

আজ এ পর্যন্তই, কথা হবে অন্য কোনো দিন অন্য কোনো টপিকে ইনশাআল্লাহ। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আল্লাহ্হাফেজ !!!

Originally published at https://www.marketerrashed.com.

--

--

--

I’m Marketer Rashed | Digital Marketer in Bangladesh. Over the last 4 years, I've been working as a senior Digital Marketing Manager. www.marketerrashed.com

Love podcasts or audiobooks? Learn on the go with our new app.

Get the Medium app

A button that says 'Download on the App Store', and if clicked it will lead you to the iOS App store
A button that says 'Get it on, Google Play', and if clicked it will lead you to the Google Play store
Marketer Rashed

Marketer Rashed

I’m Marketer Rashed | Digital Marketer in Bangladesh. Over the last 4 years, I've been working as a senior Digital Marketing Manager. www.marketerrashed.com

More from Medium

Blockchain document transfer: understanding the technology and its uses

Understanding Proxy and Reverse Proxy Servers

https://networkencyclopedia.com/proxy-server/

Square pegs, round holes

First decentralized knowledge graph — GOLDEN